হ্যাকিং কি? হ্যাকিং কেন হয়? হ্যাকিং থেকে বাঁচার উপায় সমূহ জেন নিন।

হ্যাকিং কি 

হ্যাকিং বলতে বোঝানো হয়ে থাকে তথ্য বা ফাইল চুরি বা পরিবর্তন করার জন্য একটি নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা বা কম্পিউটারে অনুমোদিত প্রবেশাধিকার। আর সাধারনত এই প্রক্রিয়ায় জড়িত ব্যক্তিকে হ্যাকার বলা হয়ে থাকে। কম্পিউটার হ্যাকিং রুটকিট, ট্রোজান,  কীলগার ইত্যাদি বিভিন্ন ধরনের প্রোগ্রাম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। হ্যাকাররা সাধারণত ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ডিটেলস গুলো চুরি করে থাকে। 

বর্তমানে হ্যাকাররা সাধারণ মানুষদের অনেক ভাবেই বোকা বানিয়ে অনেক অনেক টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে

হ্যাকিং এর ইতিহাস 

হ্যাকিং শব্দটি যেহেতু অনেক আগে এসেছে তাও হ্যাকিং আসলে কিভাবে করা হয় এবং কারা এর সাথে কিভাবে জড়িত এই বিষয় নিয়ে সাইবার বিশেষজ্ঞদের  মাঝে কিছু মতামত রয়েছে।  যদিও অনেক আগে থেকেই ষাটের দশকেই এর সাথে পরিচয় ঘটেছে এবং এখনও অনেক নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার হয়ে চলেছে। আর ১৯৬০ সালে নাকি ম্যাচচুজ বিশ্ববিদ্যালয় হ্যাকিংয়ের বিষয়ে আলোচনা হতো শোনা যায়। তখনকার সময়ে আসলে কম্পিউটারের মাধ্যমে শর্টকাট পদ্ধতি ব্যবহার করাকে হ্যাকিং বলা হত। আর ১৯৬৩ সালের নভেম্বর মাসে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের  ছাত্রদের গবেষণাপত্রে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি উল্লেখ পাওয়া যায়।

তারপর আস্তে আস্তে চলে এলো আটের দশকে এবং ফোন হ্যাকার দের দাপট শুরু হতে লাগলো। প্রথমদিকে যারা ফোন হ্যাকার ছিলেন তাদের মধ্যে জন ড্রেপারের এর নাম উল্লেখযোগ্য। আর সাধারনত গ্রুপ হ্যাকিং শুরু হয়েছিল এই সময়টাতেই। তারা সেই সময়ে ব্যবহার করত ইলেকট্রনিক বুলেটিন বোর্ড সিস্টেম। শুধু তাই নয় হ্যাকিং নিয়ে প্রথম ম্যাগাজিন ২৬০০ প্রকাশ করা হয় ১৯৮৪ সালে। চলে এলো হাজার ১৯৮৬ সাল হ্যাকিংয়ের ঘটনায় মুল অভিযুক্ত হলেন আমেরিকার রবার্ট মরিস। সে সেই সময়ের ৬০০০ সরকারি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের তথ্য হ্যাক করে নিয়েছিল। আর সেই জন্য রবাটের তিন বছরের জেল এবং ১০ হাজার পাউন্ড জরিমানা গুনতে হয়েছিল। 

তারপরে চলে এলো নব্বইয়ের দশক তখন হ্যাকারদের  স্বর্গের সময় এসে গেল। ১৯৮৫ সালে প্রায় ২০ হাজার ক্রেডিট কার্ডের নাম্বার চুরি করে নেওয়ার অপরাধে সিরিয়াল কম্পিউটার ক্রিমিনাল মিউনিখের ৫ বছরের জেল হয়। তারপর ২০০০ সালে Docs নামের আরেকটি নতুন ধরনের কম্পিউটার আক্রমণের ঘটনা ঘটলো। শুধু তাই নয় এই বছরেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আক্রমণটি ঘটলো অতি পরিচিত এবং আমাজন সাইটের উপরে। আর এই বছরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছিল। সেই বছরের মে মাসে পৃথিবীর কয়েক কোটি মানুষের মেইলবক্সে ছড়িয়ে পড়েছিল আই লাভ ইউ ভাইরাস। 

ফেসবুক হ্যাকিং 

প্রথমে আপনাকে একটি বিষয় বলে রাখি সেটি হচ্ছে ফেসবুক হ্যাকিং অতটা সহজ ব্যাপার না। পৃথিবীতে এমন কোন হ্যাকার নেই যে ফেসবুক ডাইরেক্টলি হ্যাক করতে পারবে। শুধু তাই নয় ফেসবুকের মালিক মার্ক জাকারবার্গ ১০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন যদি কেউ ডাইরেক্টলি ফেসবুক হ্যাক করতে পারে তার জন্য। তাহলে আপনাদের এবার প্রশ্ন থাকবে তাহলে কি ফেসবুক হ্যাক করা যায় না। হ্যাঁ যাই ফেসবুকে ইউজাররা যদি কোন ভুল করে থাকেন তাদের ভুলের সুযোগ নিয়ে তখন তারা আইডি হ্যাক করতে পারেন। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক ফেসবুক কিভাবে হ্যাকিং হয়ঃ

ফিশিং: সাধারণত ফেসবুক হ্যাকিং এর অন্যতম এবং সবচেয়ে সহজ উপায় হল ফিশিং। ফিশিং এর মাধ্যমে হ্যাকার ফেসবুকে লগইন পেজ এর মত দেখতে একটি পেজ তৈরী করে থাকে, যা সাধারণত আসলে একটি নকল লগ ইন পেজ। আর এই নকল লগ ইন পেজ কে ইউজার আসল লগইন পেজ বলে লগইন করে থাকেন এবং এর মাধ্যমে ইউজারের ফেসবুক পাসওয়ার্ড চলে যায় হ্যাকারের কাছে। যার মাধ্যমে আইডি হ্যাক হতে পারে। 

কিলগিং: ফেসবুক হ্যাকিং এর আরেকটি সহজ এবং জনপ্রিয় উপায় হলো কিলগিং।কীলগিং হলো খুবই বিপদজনক একটি পদ্ধতি অনেক সময় দেখা যায় কম্পিউটার সম্পর্কে দক্ষ মানুষও কি লগার দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত হ্যাকার যে কোন ফাইল বা কোন একটি ছবি বাইন্ডিং করে ভিক্টিমের কম্পিউটারে সেন্ড করে দেয় যা সাধারণত কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের অ্যাক্টিভিটি রেকর্ড করে থাকে। ফেসবুক ইমেইল পাসওয়ার্ড সহ যাবতীয় সব তথ্য হ্যাকার এর মাধ্যমে নিজের ইমেইল এ নিয়ে নেই। আর এর মাধ্যমেই হ্যাক হয়ে থাকে। 

আরো দেখুনঃ ওয়েব ডেভেলপার হওয়ার উপায়

হ্যাকিং কেন হয় 

হ্যাকিং হর সাধারণত অনেক কারণ রয়েছে। বেশি হয় তাদের আইডিতে যারা সাধারণত স্ট্রং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন না। আপনাকে একটা কথা  সকল সময় মাথায় রাখতে হবে সেটি হচ্ছে অনলাইনে হ্যাকাররা সকল সময় ঘাপটি মেরে বসে আছে।আপনি যদি এক্ষেত্রে কোনো ভুল করে থাকেন তাহলে হ্যাকাররা তার সুযোগ অবশ্যই নেবে। বেশিরভাগ তারাই হ্যাকিংয়ের শিকার হয়ে থাকেন যারা অনলাইনে কোন কাজের ক্ষেত্রে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করেন না। হ্যাকিং থেকে রুখতে হলে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা খুবই জরুরী। হ্যাকিং সাধারণত বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। 

একজন হ্যাকার আপনার প্রোফাইল হ্যাক করে তন্ন তন্ন করে খুজবে আপনার আইডিতে কোন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আছে কিনা। হয়তো আপনার আইডিতে প্রয়োজনীয় কোনো ডকুমেন্ট আছে তাহলে সেই হ্যাকার আপনার কাছে টাকা দাবি করতে পারে বা আপনাকে কোন বিভ্রান্তিতে ফালানোর জন্য সে আপনার আইডিটা হ্যাকিং করতে পারে। তাছাড়াও তাকে কেউ হয়তোবা আপনার প্রোফাইল আইডি হ্যাক এর জন্য টাকা দিয়েছে। এরকম অনেক ধরনের কারণ রয়েছে হ্যাকিংয়ের। তবে হ্যাকিংকে রুখতে হলে আপনাদের অবশ্যই সচেতন হওয়া উচিত। বিশেষ করে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এর ব্যাপারে। 

হ্যাকিং থেকে বাঁচার উপায় 

আমাদের অনলাইনে কমবেশি সবারই অ্যাকাউন্ট রয়েছে। আর অনলাইনে যাদের অ্যাকাউন্ট রয়েছে তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আপনারা যদি একটু সতর্ক হোন তাহলে হ্যাকিং থেকে খুব সহজেই বাঁচতে পারবেন। আপনি অনলাইনে যখন একাউন্ট খুলবেন তখন অবশ্যই আপনি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন। কেননা আপনার অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখার জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

 হ্যাকিং থেকে বাঁচতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের বিকল্প নাই। আর কখনো নিজের পার্সোনাল ইনফরমেশন অন্য কারো সাথে শেয়ার করা যাবে না। অন্য কারো কাছে হয়তো আপনি নিজের ব্যক্তিগত ইনফরমেশন আপনার ফেসবুকের অ্যাকাউন্ট এর ইনফর্মেশন শেয়ার করবেন। তার মাধ্যমেও আপনার ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক হতে পারে। তাই অবশ্যই নিজের প্রাইভেসি কারো সাথে শেয়ার করা যাবে না। আর আপনার জিমেইলের ক্ষেত্রে অবশ্যই শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন এবং বিশেষ করে টু স্টেপ ভেরিফিকেশন টা চালু করে রাখবেন। কেননা অনলাইনে বেশিরভাগ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়ে থাকে জিমেইল এর মাধ্যমে। তাই জিমেইল যদি সুরক্ষিত রাখতে পারেন তাহলে আপনার অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত থাকবে। তাই এসব কিছু কিছু বিষয় মেনে চললে আপনি হ্যাকিং থেকে বাঁচতে পারবেন। 

পরিশেষে, আমরা আমাদের এই আর্টিকেলের হ্যাকিং কি এবং হ্যাকিং কিভাবে হয় এবং এর থেকে বাচার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করতে চেয়েছি। কেননা বর্তমানে অনলাইনে অনেকেই হ্যাকিংয়ের সম্মুখীন হয়ে থাকেন। আজকের আমাদের এই আর্টিকেলটি পড়ার মাধ্যমে আপনারা হ্যাকিংয়ের বিষয়ে আরো সতর্ক হতে পারবেন। আর কেউ যদি এই বিষয়ে কিছু বুঝতে না পারেন অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *