হেডফোন সম্পর্কে কিছু তথ্য ও হেডফোন ব্যাবহার এর ঝুঁকি সমূহ

হেডফোন কি 

হেডফোন হলো সাধারণত কানের কাছাকাছি নিয়ে এসে শব্দ শোনার যন্ত্র। একে সাধারণত অনেকে ইয়ারফোন বা হেডসেট হিসেবেও ডেকে থাকে। সাধারণত হেড-ফোন মোবাইলফোন সিডি বা পার্সোনাল কম্পিউটারের সাথে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই যন্ত্রটা একাকী ব্যবহার করা যায় বলে এতে করে অন্যের কোন অসুবিধা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে এটি ব্যবহার করতে হবে অবশ্যই বুঝে শুনে যেমন হেড-ফোন ব্যবহার করার সময় উচ্চশব্দে কোন গান শোনা যাবে না। আর সেটা করলে আমাদের শ্রবণেন্দ্রিয়র ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক হেডফোন ব্যবহারের নিয়ম:

হেডফোন ব্যবহারের নিয়ম 

অন্যকে বিরক্ত না করে নিজের মনে গান বা অন্য কিছু শোনার জন্য হেড-ফোন এর বিকল্প নাই। কিন্তু এই হেড-ফোন রয়েছে অনেক ক্ষতিকর দিকও।আপনি যদি সারাক্ষণ কানের ভেতর ঢুকে থাকেন তাহলে আপনার ছবি শক্তি আস্তে আস্তে হ্রাস পেতে পারে। সারাক্ষণ হেডফোন ব্যবহারের ফলে আপনি অকালে বধির হয়ে যেতে পারেন। তবে আপনি যদি সঠিক কিছু নিয়ম মেনে হেডফোন ব্যবহার করেন তাহলে এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পাওয়া সম্ভব। তাহলে জেনে নেয়া যাক হেড-ফোন ব্যবহারের নিয়ম গুলিঃ

১.হেডফোনে কোন সময়ে সর্বোচ্চ ভলিয়্যুমে কিছু শোনা যাবে না।এতে করে কানের পর্দার ক্ষতি হতে পারে। কেননা হেড-ফোন এর মাধ্যমে আওয়াজ সরাসরি কানের ভেতরে প্রবেশ করে। তাই অবশ্যই আপনাদেরকে এই বিষয়ে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। 

২.বাইরে বেরিয়ে গান শুনতে হলে তা শুনুন যানবাহনের যাত্রার সময় বা এক জায়গায় বসে। পথেঘাটে চলাফেরার সময় ব্যায় রাস্তার লাইন পার হওয়ার সময় কোন সময় আপনি হেডফোন ব্যবহার করবেন না। যানবাহনের যদি আপনি চালকের আসনে বসে থাকেন তাহলে কোন সময় হেডফোন ব্যবহার করবেন না। এতে করে সাধারণত মনঃসংযোগ নষ্ট হয়ে যায় এবং এর ফলে আসে পাশের গাড়ির হর্ণও আপনি শুনতে পারবেন না। তাই এতে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। 

৩.একটানা কোন সময় বা কখনও আপনি আধ ঘণ্টার বেশি হেডফোন ব্যবহার করবেন না। আপনি যদি মোবাইলের মাধ্যমে হেড-ফোন লাগিয়ে কোন সিনেমা দেখেন তাহলে অবশ্যই হাফ ঘন্টা পর আপনি বিরতি নেবেন। সেই সময় অন্তত আপনার কানকে ৫ থেকে ১০ মিনিট বিশ্রাম দিন। 

৪.আপনি যে কোম্পানির মোবাইল ব্যবহার করছেন অবশ্যই সেই কোম্পানির হেডফোন ব্যবহার করবেন। কেননা প্রতিটি কোম্পানি তাদের নির্দিষ্ট মডেলের জন্য নির্দিষ্ট হেডফোন তৈরি করে থাকে। দশটা রয়েছে যে আমাদের হেডফোন নষ্ট হয়ে গেলে বাজার থেকে যে কোন একটি সস্তা হেডফোন কিনে নিয়ে এসে আমরা ব্যবহার করি। এসব হেডফোন গুলো কিন্তু কানের জন্য খুবই ক্ষতিকর তাই আপনার হেডফোন কোন সময় খারাপ হলেও আপনার ফোন যে মডেলের সেই মডেলের হেডফোন ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। কেননা ফোন থেকে বেরোনো রশ্মির তরঙ্গ, ইত্যাদির ওপর বিবেচনা করেই হেডফোনের তরঙ্গ ও তার ক্ষমতা ঠিক করা হয়ে থাকে। 

আরো জানুনঃ স্যামসাং এর কম দামী চারটি স্মার্টফোন

হেডফোন বেশি ব্যবহারের ঝুঁকি 

আমরা সাধারণত যারা স্মার্ট ফোন ব্যাবহার করে থাকি তারা মাঝে মাঝে হেড-ফোন ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু একটা বিষয় কোনকিছুই অতিরিক্ত ভালো না। আপনি হেডফোন ব্যবহার করুন কিন্তু সেটা মাত্রা পরিমাণে সারাদিন হেড-ফোন কানে লাগিয়ে থেকে গান শুনলেন তা কিন্তু হবেনা। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক হেডফোন বেশি ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কেঃ

শ্রবণ জটিলতা 

আপনি যখন হেড-ফোন বা এয়ার ফোন ব্যবহার করবেন শব্দ তখন সরাসরি আপনার কানে যাবে। আর ৯০ ডেসিবল বা তার বেশি মাত্রায় যখন মানুষের কারণে শব্দ পৌঁছায় তখন তার কানের ক্ষতি হতে পারে।শুধু তাই নয় আপনি যদি ১০০ ডেসিবল এর ওপর শব্দ আপনার কানে ১৫ মিনিট রাখেন তাহলে আপনার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। 

বাতাস প্রবেশে বাধা সৃষ্টি 

আপনি যখন হেড-ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করেন তখন আপনার কানের ভিতর বাতাস ঢুকতে পারে না। যার ফলে কানের ভেতর ইনফেকশনের সম্ভাবনা অনেকাংশে বেড়ে যায়। 

মস্তিষ্কের ওপর খারাপ প্রভাব

হেড-ফোন দ্বারা সৃষ্ট ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তরঙ্গ মস্তিষ্কের জন্য খুবই বিপদ ডেকে আনতে পারে। আর সাধারণত যারা ব্লুটুথ হেড-ফোন ব্যবহার করে থাকেন তাদের ঝুঁকির মাত্রা এক্ষেত্রে আরও বেশি। কেননা কান সরাসরি মস্তিষ্কের সাথে যুক্ত তাই আপনি যখন হেড-ফোন ব্যবহার করেন এর ফলে আপনার মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে। 

কানে ব্যথা 

যারা সাধারণত অতিরিক্ত হেড-ফোন ব্যবহার করে থাকেন তারা কানের ব্যথা এই সমস্যায় ভুগে থাকেন।তাদের কানের ভিতর মাঝেমধ্যে ভো ভো আওয়াজ হয়ে থাকে । এটি কিন্তু খুবই খারাপ লক্ষণ। 

শ্রবণশক্তির জড়তা

অনেক গবেষণায় এটা প্রমাণ হয়েছে- যে যারা বেশিরভাগ সময় হেড-ফোন ব্যবহার করেন বা অনেক জোরে জোরে গান শোনেন হেড ফোনের মাধ্যমে কানের জড়তা খুব তাড়াতাড়ি চলে আসে। 

কানে ইনফেকশন বা প্রদাহ 

সাধারণত আমরা আমাদের নিজেদের হেড-ফোন বন্ধু-বান্ধবদের সাথে শেয়ার করে থাকি। এতে কানে ইনফেকশন হওয়ার মারাত্মক সম্ভাবনা থাকে। কেননা ইয়ারফোন বা হেডফোন এর মাধ্যমে একজনের কানের জীবাণু অন্য জনের কানে যেতে পারে। 

পরিশেষে, হেড-ফোন বা এয়ার ফোন ব্যবহার করা যেতে পারে তবে সেটি অবশ্যই সর্তকতা অবলম্বন করে। কেননা এটি ব্যবহার করার সুফল কুফল অনেক বেশি। তাই অবশ্যই সতর্কতার সাথে কানে হেড-ফোন ব্যবহার করা উচিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *