ওয়ার্ডপ্রেস কী? এর ইতিহাস, কেন ও কীভাবে শিখবেন? জেনে নিন..

ওয়ার্ডপ্রেস কি 

ওয়ার্ডপ্রেস হল Php এবং Mysql ব্যবহার করে তৈরিকৃত একটি শক্তিশালী কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম, যার মাধ্যমে কোডিং সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না রেখেও একটি ভালো মানের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। 

সহজ ভাবে যদি বলা যায়,ওয়াডপ্রেস হলো সাধারণত একটা ওয়েবসাইট তৈরীর কারখানা। এই কারখানার সাধারণত সকলের জন্য উন্মুক্ত। এখানে সাধারণত যে কেউ চাইলে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে। আর এর বিনিময় তাদের কোনো অর্থ দিতে হয়না। Php এবং Mysql ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এবং ওয়ার্ডপ্রেসের কোনরকম হস্তক্ষেপ না থাকায় আপনার বানানো ওয়েবসাইটটি হয় প্রফেশনাল এবং ডায়নামিক। 

ওয়ার্ডপ্রেস এর ইতিহাস 

ম্যাট মুলেনওয়েগ ২০০৩ সালের ২৭ শে মে সর্বপ্রথম ওয়ার্ডপ্রেস প্রকাশ্যে আনেন। শুরুর দিকে বলতে গেলে, B2 এবং Cafelog সংগঠনটি সেই সময় কমপক্ষে ২০০ টি ব্লগ হোস্ট করাতে চেয়েছিলো। ওয়ার্ডপ্রেস সিএমএসটি -পিএইচপি ফ্রেমওয়ার্ক এবং মাইক্রো এসকিউএল ডাটাবেজের একটি সমন্বিত রূপ। এটা সাধারণত মাইকেল ভালেন্টি কর্তিক আধুনিকায়ন করা হয়, বর্তমানের যিনি ওয়ার্ডপ্রেসের ডেভেলপার এবং ওয়ার্ডপ্রেসের অফিশিয়াল অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত। 

ওয়ার্ডপ্রেস সর্বপ্রথম ২০০৩ সালে ম্যাট মুলেনওয়েগ এবং মাইক লিটিল কর্তৃক বিটু ইভালুয়েশন এর ছোট একটি প্রজেক্ট ছিল। আর আমরা সাধারণত বর্তমান ওয়ার্ডপ্রেস যে নাম ধরে বলছি এটা ম্যাট মুলেনওয়েগ এর বন্ধু ক্রিস্টিন সেল্লেক পছন্দ করা নাম ছিল। 

তারপর ২০০৪ সালে Six apart কর্তিক তৈরিকৃত আরেক ধরনের ব্লগিং সফটওয়্যার Movable type তাদের ব্যবহার বিধিমালা পরিবর্তন করায় তাদের অধিকাংশ ব্যবহারকারী Movable type ছেড়ে wordpress-এর চলে আসেন। আর এটি সাধারণত ওয়ার্ডপ্রেসের ভাগ্যকে আরো প্রসারিত করে দিয়ে যায়। এটি এখন ডেভেলপ করে চলেছেন সারা বিশ্বের অসংখ্য ডেভেলপার। আপনি যদি মনে করেন নিজেও ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপমেন্ট এর অবদান রাখতে পারেন। 

ওয়ার্ডপ্রেস কেন শিখবেন 

বর্তমানে আপনি এখন ওয়াডপ্রেস সিএমএস ব্যবহার করে খুব সহজেই একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। শুধুমাত্র ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ারের নয় কর্পোরেট এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলো তেও ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপারদের অনেক চাহিদা এখন। তাহলে চলুন জেনে নেয়া যাক কি কারনে ওয়াডপ্রেস শিখবেন-

★ওয়ার্ডপ্রেস এখন বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয়  ব্লগ পাবলিশিং অ্যাপ্লিকেশন এবং একটি শক্তিশালী কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।

★বর্তমান পৃথিবীর প্রায় ৬0% ওয়েব ডেভলপার ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করে থাকেন। 

★ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে খুব সহজেই ভালো মানের যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়। 

★বর্তমানে যেসব মার্কেটপ্লেস রয়েছে সেসব মার্কেটপ্লেসগুলোতে ওয়ার্ডপ্রেসের চাহিদা সবচাইতে বেশি। 

★ওয়ার্ডপ্রেস এর মাধ্যমে প্রফেশনাল ব্লগ সাইট, বিজনেস সাইট, নিউজ সাইট যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট ডায়নামিক ভাবে তৈরি করা যাবে। 

★বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসে এবং ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোতে ওয়ার্ডপ্রেস ডেভেলপারদের অনেক চাহিদা থাকায় সেখানে আপনি প্রচুর কাজ পাবেন। 

★বিভিন্ন ওয়েব ডেভলপ ফার্মে আপনি ভালো বেতনে চাকরি করতে পারেন। 

আরো জেনেন নিনঃ হ্যাকিং কী? হ্যাকিং নিয়ে জানুন।

ওয়ার্ডপ্রেস কিভাবে শিখবেন 

আপনি চাইলে এক সপ্তাহের মধ্যে খুবই ভালভাবে ওয়ার্ডপ্রেস শিখে ফেলতে পারবেন। আপনি যদি প্রতিদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় দেন তাহলেই হবে।ওয়ার্ডপ্রেস শেখার জন্য আপনাকে প্রচুর সময় বা টাকা দেয়ার কোন দরকার নাই।  

প্রথমে আপনাকে xammp ডাউনলোড করতে হবে এবং ইন্সটল দিতে হবে। তারপর আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে হবে। xammp সফটওয়্যারটি দিয়ে আপনার পিসি তে একটি লোকাল সার্ভার তৈরি করতে হবে। আপনার পিসিতে আপনি পুরো একটি ওয়েবসাইট তৈরি এবং ডিজাইন করতে পারবেন। তারপর আপনি ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করে কাজ করা শুরু করতে পারবেন।

ওয়ার্ডপ্রেসের অসংখ্য থিম এবং প্লাগিন  রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজে যেকোনো ওয়েবসাইট তৈরি এবং সেগুলো মডিফাই করতে পারবেন। থিম হলো আপনার ওয়েবসাইটটি দেখতে কেমন হবে তাই। আর প্লাগিন হলো সাধারণত বিভিন্ন ফাংশন দিয়ে তৈরি যার মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ফিচার অ্যাড করতে পারবেন। 

ওয়ার্ডপ্রেসের ইন্টারফেসও খুব সহজ। আপনি দু-একদিনের মধ্যেই এটি কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটাও শিখে ফেলতে পারবেন। তারপর আপনার কাজ হলো কিভাবে থিম কাস্টমাইজেশন হয় সেটা শেখা। ওয়ার্ডপ্রেস থিম কাস্টমাইজেশন শেখা হয়ে গেলে আপনি খুব সহজেই নিজের পছন্দমত একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারবেন। সেটা হয়ে গেলে এবার আপনার কাজ হল প্লাগিন ব্যবহার করা শেখা।যেমন ধরুন বিভিন্ন উইজেট, কন্টাক্ট ফর্ম, অন পেজ এসইও, সাইটম্যাপ, ওয়েবসাইটের speedবাড়ানো আরো অনেক কাজে আপনি চাইলে প্লাগইন ব্যবহার করতে পারেন। 

ওয়ার্ডপ্রেসে আপনার মূল যে কাজটা সেটা হল থিম কাস্টমাইজেশন শেখা। তারপর আপনার কাজ হবে লাইভ সার্ভারে কাজ করা। এজন্য প্রথমে আপনাকে ডোমেইন হোস্টিং কিনে একটি ওয়েবসাইট বানাতে হবে। ডোমেইন হোস্টিং কেনার জন্য আপনার সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা খরচ হতে পারে।

ভালোভাবে আপনার যদি কাজ শেখা হয়ে যায় তাহলে আপনার এবার টার্গেট হবে পোর্টফোলিও ওয়েবসাইট তৈরি করা। তারপর আপনার কাস্টমাইজ করা ওয়েবসাইটগুলো পোর্টফোলিওতে সুন্দরভাবে সাজান।তারপর বিভিন্ন মার্কেটপ্লেসগুলোর যেমন ফাইবার, আপওয়ার্ক, ফ্রিল্যান্সার এসব ওয়েবসাইটগুলোতে আপনার একটি সুন্দর প্রোফাইল তৈরি করুন এবং কাজের জন্য এপ্লাই করুন। 

পরিশেষে, ওয়ার্ডপ্রেস  হচ্ছে বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় একটি  কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। আপনারা এই পোষ্টের মাধ্যমে অবশ্যই জানতে পেরেছেন কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস শিখবেন এবং ওয়ার্ডপ্রেস শিখে টাকা আয় করবেন। যদি আপনি এই বিষয়ে কারও কিছু জানতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের কমেন্ট করে জানাবেন। আমরা আপনার প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করব। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *