এসইও কি, এসইও কীভাবে করবেন এবং এর প্রকারভেদ সম্পর্কে ধারণা।

আমরা যারা ওয়েবসাইট ব্যবহার করে থাকি তারা সাধারণত সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন মানে এসইও বা ওর সাথে কমবেশি সবাই পরিচিত। এসইওর মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইট কে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পেজে নিয়ে যেতে পারবেন এবং সেখান থেকে কাঙ্খিত ভিজিটর পাবেন। একটি ওয়েবসাইটকে রেংক করানোর জন্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে শুরু করে অনলাইন সেক্টরে প্রতিটা ক্ষেত্রে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন কে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়ে থাকে। তাহলে অবশ্যই বুঝতে পার্সেন্টেজ সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর গুরুত্ব। আজকে আমি আপনাদের সাথে এই আর্টিকেলের আলোচনা করব সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন সম্পর্কে। 

এসইও কী, কীভাবে এসইও করবেন
এসইও ছাড়া ওয়েবসাইট র‍্যাঙ্ক করা সম্ভব না, তাই এসইও খুবই জরুরী

এসইও কি 

এসইও হলো সাধারণত যে পদ্ধতিতে ওয়েবসাইটের পেজকে একটি নির্দিষ্ট কিওয়ার্ড ব্যবহার করার মাধ্যমে গুগল, ইয়াহু, বিং অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, যা ওয়েব সার্চ ইঞ্জিনে রেজাল্ট পেজের মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটের ট্রাফিকের পরিমাণ এবং গুণগত মান বৃদ্ধি করে থাকে। কিন্তু বর্তমানে অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোতে সার্চ রেজাল্টের অসাধারণ কিছু অ্যালগোরিদমের জন্য গুগল সার্চ ইঞ্জিনকে টার্গেট করে সাধারণত এসইও করা হয়ে থাকে। কেননা বর্তমানে এখন গুগলেই সব থেকে বেশি সার্চ করা হয়ে থাকে। সহজ কথা যদি বলা যায় সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও হলো, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইটকে সার্চ ইঞ্জিনের প্রথম পৃষ্ঠায় বা পেজে আনা।

অনপেজ এসইও 

ওয়েবসাইট রেঙ্ক করানোর জন্য অন পেজ এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। অনপেজ এসইও এর মাধ্যমে ওয়েবসাইটের র্যাংক করানোর  ৯০ শতাংশ  কাজই প্রায় হয়ে যায় অনপেজ এসইও মানে ওয়েবসাইট এর ভেতরের যেসব কাজ করা হয় যেমন -মেটা টাইটেল, মেটা ডিস্ক্রিপশন, ছবির টাইটেল, স্টান্ড  ক্যাপশন এর যথারীতি ব্যবহার ও ইন্টারনাল লিংক ইত্যাদি। অন পেজ  এসইওর গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় হলোঃ

কিওয়ার্ড রিসার্চঃকিওয়ার্ড হচ্ছে সাধারণত সার্চিং ভলিউম। ধরুন আপনি গুগলে কোন বিষয় সম্বন্ধে জানতে চান আপনি এবার সেই বিষয় সম্পর্কে কিছু লাইন লিখলেই গুগলের সার্চ দিলেই চলে আসবে এটি হলো সাধারণত কিওয়ার্ড। কিওয়ার্ড রিসার্চ সাধারণত অনপেজ এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। আপনি যদি কিওয়ার্ড রিসার্চ টা সঠিক ভাবে করতে পারেন তাহলে অনপেজ এসইও কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। 

কিওয়ার্ড ডেনসিটিঃআসলে কিওয়ার্ড ডেনসিটি টা হচ্ছে মোট কিবোর্ড এর অনুপাত। ধরুন আপনি একটি কনটেন্ট লিখছেন ১০০ ওয়ার্ড এর আপনি এখানে একবার মেন কিওয়ার্ড  ব্যবহার করলেন তাহলে এখানে আপনার কি অর ডেন্সিটি হবে এক শতাংশ। এভাবেই সাধারণত কিওয়ার্ড ডেনসিটি হিসাব করা হয়ে থাকে।

মেটা ডিস্ক্রিপশন ট্যাগঃমেটা ডিস্ক্রিপশন হলো একটি ওয়েব পেজের সামারি এইচটিএমএল ট্যাগ। আপনি সাধারণত যখন সার্চ ইঞ্জিন এর মাধ্যমে সার্চ করবেন তখন এটা দেখতে পারবেন। আরে সামারি দেখে দর্শক বুঝে যাবে যে আপনার ওয়েবসাইটে কোন ধরনের কনটেন্ট রয়েছে। 

মেটা টাইটেল ট্যাগঃমেটা টাইটেল ট্যাগ হল একটি ওয়েব পেজের এইচটিএমএল ট্যাগ। কেউ যখন সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে সার্চ করবে তখন এটি দেখা যাবে তাই অবশ্যই মেটা টাইটেল ট্যাগে ব্রান্ড কিওয়ার্ডগুলো রাখা উচিত । 

তাছাড়া অনপেজ এসইও এর মধ্যে আরও রয়েছে রোবটTxt সাইট ম্যাপ, চিত্র পরিবর্তিত পাঠ্য, ফেভিকন, ফ্লাশ ফাইল, ডেড লিংক, এইচ-1 ট্যাগ ইত্যাদি। এই কাজগুলো করতে পারলে অনপেজ এসইও ৯৯ শতাংশেরও বেশি কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। 

অফ পেজ এসইও 

আপনি যদি অফ পেজ এসইও  সঠিকভাবে অনুসরণ করুেন তাহলে আপনার ওয়েবসাইট অবস্থান করবে গুগলের প্রথম পৃষ্ঠায়। এর মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইট গুগলের প্রথম পেজে নিয়ে গিয়ে সেখান থেকে প্রচুর পরিমাণে ট্রাফিক বাড়াতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইটে।ওয়েবসাইটের বাইরে যে কাজগুলো সাধারণত করা হয়ে থাকে লিংক বিল্ডিং, সোশ্যাল মিডিয়া, ফোরাম পোস্টিং, প্রোফাইল লিংক বিল্ডিং, গেস্ট পোস্টিং ইত্যাদি অফ পেজ এসইওর অন্তর্ভুক্ত। 

সাধারণত সার্চ ইঞ্জিনগুলোতে রাঙ্কিং পেতে হলে অফ পেজ এসইও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর অফ পেজ এসইওর গুরুত্বপূর্ণ এবং সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা হলো সেটি হচ্ছে ব্যাকলিংক তৈরি করা। অফ পেজ এসইও সাধারণত লিংক বিল্ডিং এর সাথে জড়িত। আপনি যত বেশি লিংক বিল্ডিং করতে পারবেন তত বেশি আপনার গুগল সার্চ ইঞ্জিন পারফরম্যান্স হাই থাকবে। শুধু তাই নয় আপনার ওয়েবসাইটের ডোমেইন এবং পেজ অথরিটি বৃদ্ধি করার একমাত্র উপায় হলো লিংক বিল্ডিং। 

অফ পেজ এসইও যেকোনো ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং এর কারণে আপনার ওয়েবসাইটের অথরিটি বেরে থাকে। আপনি যদি ধীরে ধীরে বিশ্বস্ততার সাথে কোন প্রকার স্পামিং  ছাড়া লিংক বিল্ডিং করতে পারেন তাহলে গুগলের কাছে আপনার ওয়েবসাইটের অথরিটি দিন দিন বাড়তে থাকবে। 

ব্যাকলিংক হল অফ পেজ এসইওর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। এককথায় ব্যাকলিংকের অফ পেজ এসইওর মূল অংশ  ও বলা যেতে পারে। ব্যাকলিংক এর ভেতরে আবার ভাগ রয়েছে ব্যাকলিংক দুই ধরনের হয়ে থাকে-

dofollow backlinks- যখন অন্য কারো ওয়েবসাইট আপনার সাথে একটি স্ট্যান্ডার্ড লিংক যুক্ত করে এটি সাধারণত সরাসরি সার্চ ইঞ্জিনের রেংকিং কে প্রভাবিত করতে পারে। অর্থাৎ এটি আপনার ওয়েবসাইটকে রেফার করবে এবং এর মাধ্যমে অথরিটি প্রদান করবে।

nofollow backlinks-আসলে nofollow লিংকটি এমন একটি লিংক যা এর এইচটিএমএল কোডে একটি rel =nofollow বৈশিষ্ট্য ধারণ করে থাকে। আর এই বৈশিষ্ট্যগুলো অনুসন্ধান ইঞ্জিন গুলিকে লিংকিং পৃষ্ঠা থেকে গন্তব্য পৃষ্ঠায় অথরিটি প্রদান করে না। 

আরো দেখুনঃ হ্যাকিং কি? হ্যাকিং কেন হয়?

এসইও করার প্রয়োজনীয়তা 

এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এমন একটি সিস্টেম যার মাধ্যমে আপনি সারা বছর সার্চ ইঞ্জিন থেকে ফ্রিতে ট্রাফিক পাবেন। আপনার ওয়েবসাইট এসইও করার মাধ্যমে ট্রাফিকের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারবে। যে সাইটের ট্রাফিক নেই সে সাইটের কোন মূল্য নেই। বর্তমানে এখন অধিকাংশ মানুষ তাদের প্রয়োজনীয় জিনিস গুগল সার্চ ইঞ্জিনের সার্চ করে থাকে। দেখা যাচ্ছে একটি ওয়েবসাইটে “ফেসবুক থেকে আয়”এই বিষয়টি নিয়ে একটি পোস্ট আছে আবার কেউ সার্চ ইঞ্জিনের ফেসবুক থেকে এই বিষয়টির লিখে সার্চ করলে এবার আপনার ওই আর্টিকেলটি বা আপনার ওয়েবসাইটটি যদি পরিপূর্ণ এসইও করার থাকে তাহলে এই টপিকটি সে পেয়ে যাবে এবং আপনার ওয়েবসাইটে ভিজিট করে দেখবে। 

আর আপনি যদি আপনার ওয়েবসাইট পরিপূর্ণ এসো না করতে পারেন তাহলে গুগোল আপনার পোস্ট খুঁজে পাবেন না।যার ফলে আপনি সার্চ ইঞ্জিন থেকে কোন ভিজিটর পাচ্ছেন না। ফলে আপনার ট্রাফিক বাড়ছে না আপনার ওয়েবসাইট অথরিটি পারছে না। তাহলে হয়তো অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন যে একটি ওয়েবসাইটের জন্য এসইও করার গুরুত্ব ঠিক কতটা। এসইও ওয়েবসাইট রেঙ্ক  করানোর কোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

আপনি যদি এসইও এর পাশাপাশি ডিজিটাল মার্কেটিং করতে চান তবে খালিদ ফারহান ভাইয়ের একটা কোর্স আছে সেইটা করতে পারেন।

পরিশেষে, বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিং থেকে শুরু করে অনলাইন সেক্টরে প্রতিটা ক্ষেত্রেই এসইও দিকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। কেননা আস্তে আস্তে সার্চ ইঞ্জিন এর গুরুত্ব বাড়িতে থাকছে মানুষ এখন যা কিছুই জানতে চাচ্ছে তাই সার্চ ইঞ্জিনে সে লিখছে। তাই ওয়েবসাইটের ট্রাফিক বাড়ানো বা ধরে রাখার জন্য অবশ্যই ওয়েবসাইট পরিপূর্ণ করা দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *